|

অপরিচিতা গল্পের সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন PDF সহ

অপরিচিতা গল্পের সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন PDF: অপরিচিতা কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা একটি ছোট গল্প। একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য এই গল্পটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রতি বছরই এইচএসসি পরিক্ষায় অপরিচিতা গল্প থেকে সৃজনশীল, ও এমসিকিউ প্রশ্ন আসে। আজকের আর্টিকেলে অপরিচিতা গল্পের সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন PDF সহ শেয়ার করা হবে। কথা না বাড়িয়ে তাহলে চলুন শুরু করি।


অপরিচিতা গল্পের সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন PDF: জ্ঞানমূলক

১. ‘অপরিচিতা’ গল্পটি প্রথম কোথায় প্রকাশিত হয়?
উত্তর: ‘অপরিচিতা’ গল্পটি প্রথম প্রকাশিত হয় প্রমথ চৌধুরী সম্পাদিত মাসিক ‘সবুজপত্র’ পত্রিকায়।

২. অনুপমের বাবার পেশা কী ছিল?
উত্তর: অনুপমের বাবার পেশা ছিল ওকালতি।

৩. কোন কথা স্মরণ করে অনুপমের মামা ও মা ‘একযোগে বিস্তর হাসিলেন’?
উত্তর: গায়েহলুদের বাহকদের বিদায় করতে কনেপক্ষকে যে নাকাল হতে হবে, সে কথা স্মরণ করে অনুপমের মামা ও মা ‘একযোগে বিস্তর হাসিলেন’।

৪. ‘অপরিচিতা’ গল্পের মামা অনুপমের চেয়ে কত বছরের বড়?
উত্তর: ‘অপরিচিতা’ গল্পের মামা অনুপমের চেয়ে বড়জোর বছর ছয়েক বড়।

৫. অনুপমের পিসতুতো ভাইয়ের নাম কী?
উত্তর: অনুপমের পিসতুতো ভাইয়ের নাম বিনু।

৬. ‘কন্সর্ট’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: ‘কন্সর্ট’ শব্দের অর্থ নানা রকম বাদ্যযন্ত্রের ঐকতান।

৭. কন্যাকে আশীর্বাদ করার জন্য কাকে পাঠানো হলো?
উত্তর: কন্যাকে আশীর্বাদ করার জন্য বিনুদাদার্কে পাঠানো হয়েছিল।

৮. বিবাহ ভাঙার পর থেকে কল্যাণী কোন ব্রত গ্রহণ করেছে?
উত্তর: বিয়ে ভেঙে যাওয়ার পর থেকে কল্যাণী মেয়েদের শিক্ষার ব্রত গ্রহণ করেছে।

৯. ‘অপরিচিতা’ গল্পে কাকে গজাননের ছোট ভাই বলা হয়েছে?
উত্তর: ‘অপরিচিতা’ গল্পে গল্পকথক অনুপমকে গঙ্গাননের ছোট ভাই বলা হয়েছে।

১০. কাকে ‘মাকাল ফল’ বলে বিদ্রূপ করা হয়েছে?
উত্তর: অনুপমকে ‘মাকাল ফল’ বলে বিদ্রূপ করা হয়েছে।

১১. ‘‘অপরিচিতা’ গল্পে কন্যাকে কী দিয়ে আশীর্বাদ করা হয়েছিল?
উত্তর: ‘অপরিচিতা’ গল্পে কন্যাকে এয়ারিং দিয়ে আশীর্বাদ করা হয়েছিল।

১২. বিয়ের সময় অনুপমের বয়স কত ছিল?
উত্তর: বিয়ের সময় অনুপমের বয়স ছিল তেইশ বছর।

১৩. ‘অপরিচিতা’ গল্পে শম্ভুনাথ সেনের পেশা কী ছিল?
উত্তর: ‘অপরিচিতা’ গল্পে শম্ভুনাথ সেন পেশায় ডাক্তার ছিলেন।

১৪. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন স্থানে বসবাসের সময়টি ‘ছোটগল্প রচনার স্বর্ণযুগ’ হিসেবে বিবেচিত হয়?
উত্তর: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কুষ্টিয়া শিলাইদহে বসবাসের সময়টি ‘ছোটগল্প রচনার স্বর্ণযুগ’ হিসেবে বিবেচিত হয়।

১৫. কল্যাণী কোন স্টেশনে নেমেছিল?
উত্তর: কল্যাণী কানপুর স্টেশনে নেমেছিল।

১৬. কল্যাণীর সাথে কয়টি মেয়ে ছিল?
উত্তর: কল্যাণীর সাথে দু-তিনটি ছোট ছোট মেয়ে ছিল।

১৭. কোন বাতাসে অনুপমের শরীর মন কাঁপতে লাগল?
উত্তর: বসন্তের বাতাসে অনুপমের শরীর মন কাঁপতে লাগল।

১৮. অনুপমকে কে আশীর্বাদ করেন?
উত্তর: অনুপমকে শম্ভুনাথ সেন আশীর্বাদ করেন।

১৯. অনুপমের মা কেমন ঘরের মেয়ে ছিলেন?
উত্তর: অনুপমের মা গরিব ঘরের মেয়ে ছিলেন।

২০. ‘অপরিচিতা’ গল্পের লেখক কে?
উত্তর: ‘অপরিচিতা’ গল্পের লেখক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

২১. অনুপমের ভাগ্যে প্রজাপতির সঙ্গে কিসের কোনো বিরোধ নেই?
উত্তর: অনুপমের ভাগ্যে প্রজাপতির সঙ্গে পঞ্চশরের কোনো বিরোধ নেই।

২২. বিয়ে উপলক্ষে কনে পক্ষকে কোথায় আসতে হয়েছিল?
উত্তর: বিয়ে উপলক্ষে কনে পক্ষকে কলিকাতায় আসতে হয়েছিল।

২৩. ‘অপরিচিতা’ গল্পের নায়িকার নাম কী?
উত্তর: ‘অপরিচিতা’ গল্পের নায়িকার নাম কল্যাণী।

২৪. রস দিয়ে বর্ণনা করার শক্তি ছিল কার?
উত্তর: রস দিয়ে বর্ণনা করার শক্তি ছিল হরিশের।

২৫. ধনীর কন্যা কার পছন্দ নয়?
উত্তর: ধনীর কন্যা অনুপমের মামার পছন্দ নয়।

২৬. ‘প্রদোষ’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: ‘প্রদোষ’ শব্দের অর্থ হলো ‘সন্ধ্যা।

২৭. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত বিশ শতকের গল্পে কোন বিষয়টি প্রাধান্য পেয়েছে?
উত্তর: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত বিশ শতকের গল্পে সমাজ জীবনের বাস্তবতা প্রাধান্য পেয়েছে।

২৮. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সর্বশেষ গল্পটির নাম কী?
উত্তর: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সর্বশেষ গল্পটির নাম ‘মুসলমানীর গল্প।’

২৯. ‘অপরিচিতা’ গল্পটি কোন পুরুষে বর্ণিত হয়েছে?
উত্তর: ‘অপরিচিতা’ গল্পটি উত্তম পুরুষে বর্ণিত হয়েছে।

৩০. অনুপমের আসল অভিভাবক কে ছিলেন?
উত্তর: অনুপমের আসল অভিভাবক ছিলেন তার মামা।

৩১. ‘অপরিচিতা’ গল্পের গল্পকথকের নাম কী?
উত্তর: ‘অপরিচিতা’ গল্পের গল্পকথকের নাম অনুপম।

৩২. মনুসংহিতা কী?
উত্তর: মনুসংহিতা হলো মনু প্রণীত মানুষের আচরণবিধি সংক্রান্ত গ্রন্থ ৷

৩৩. অনুপমের বিয়ের ঘটক কে ছিলেন?
উত্তর: অনুপমের বিয়ের ঘটক ছিলেন তার বন্ধু হরিশ।

৩৪. শম্ভুনাথ সেনের বয়স কত?
উত্তর: শম্ভুনাথ সেনের বয়স চল্লিশের এপারে বা ওপারে।

৩৫. সেকরার হাতে শম্ভুনাথ কী পরখ করতে দিয়েছিলেন?
উত্তর: সেকার হাতে শম্ভুনাথ একজোড়া এয়ারিং পরখ করতে দিয়েছিলেন।

৩৬. অনুপমের বন্ধু হরিশ কোথায় কাজ করতেন?
উত্তর: অনুপমের বন্ধু হরিশ কানপুরে কাজ করতেন।

৩৭. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কত বঙ্গাব্দে জন্মগ্রহণ করেন?
উত্তর: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১২৬৮ বঙ্গাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।

৩৮. কল্যাণীর বাবার নাম কী?
উত্তর: কল্যাণীর বাবার নাম শম্ভুনাথ সেন।

৩৯. বিয়ের সময় কল্যাণীর বয়স কত ছিল?:
উত্তর: বিয়ের সময় কল্যাণীর বয়স ছিল পনেরো বছর ‘লগ্ন’ কী? উত্তর: হিন্দু ধর্মের নিয়ম অনুযায়ী বিয়ের সময়ই হলো লগ্ন।

৪০. ‘অন্নপূর্ণা’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: ‘অন্নপূর্ণা’ শব্দের অর্থ অন্নে পরিপূর্ণা।

৪১. ‘অন্তঃপুর’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: ‘অন্তঃপুর’ শব্দের অর্থ অন্দরমহল।

৪২. ‘সওগাদ’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: ‘সওগাদ’ শব্দের অর্থ উপঢৌকন।

৪৩. ‘অভ্র’ কী?
উত্তর: ‘অভ্র’ হলো এক ধরনের খনিজ ধাতু।

৪৪. এয়ারিং কী?
উত্তর: এয়ারিং হচ্ছে কানের দুল।

৪৫. হরিশ ছুটি কাটাতে কোথায় গিয়েছিল?
উত্তর: হরিশ ছুটি কাটাতে কলকাতায় গিয়েছিল।

৪৬. অনুপমের মামার জীবনে একমাত্র লক্ষ্য কী ছিল?
উত্তর: অনুপমের মামার জীবনে একমাত্র লক্ষ্য ছিল তিনি কারো কাছে ঠকবেন না।

৪৭. কল্যাণীকে কার ফটোগ্রাফ দেখানো হয়েছিল?
উত্তর: কল্যাণীকে অনুপমের ফটোগ্রাফ দেখানো হয়েছিল।

৪৮. ‘গজানন’ কে?
উত্তর: ‘গজানন’ হচ্ছে দেবতা গণেশ।


🔰🔰 আরও দেখুন: HSC- ২০২৩ রসায়ন সাজেশন (১০০% কমন থাকবে)
🔰🔰 আরও দেখুন: HSC- ২০২৩ বাংলা ২য় পত্র সাজেশন (১০০% কমন থাকবে)


৪৯. নম্রতার সাথে বরযাত্রীদের অভিষিক্ত করেছিল কে?
উত্তর: নম্রতার সাথে শম্ভুনাথ বাবুর উকিল বন্ধু বরযাত্রীদের অভিষিক্ত করেছিল।

৫০. ‘অপরিচিতা’ বলতে কাকে নির্দেশ করা হয়েছে?
উত্তর: ‘অপরিচিতা’ বলতে গল্পের নায়িকা কল্যাণীকে নির্দেশ করা হয়েছে।

৫১. ‘অপরিচিতা’ গল্পে কার কণ্ঠ অত্যন্ত মধুর ছিল?
উত্তর: ‘অপরিচিতা’ গল্পে কল্যাণীর কণ্ঠ অত্যন্ত মধুর ছিল।

৫২. ট্রেনে ওঠার জন্য অনুপমের মাকে কে সহায়তা করেছিল?
উত্তর: ট্রেনে ওঠার জন্য অনুপমের মাকে কল্যাণী সহায়তা করেছিল।

৫৩. অনুপমের ভাগ্যদেবতার প্রধান এজেন্ট কে?
উত্তর: অনুপমের ভাগ্যদেবতার প্রধান এজেন্ট হলেন তার মামা।


অপরিচিতা গল্পের সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন PDF: অনুধাবন

১. “এই তো আমি জায়গা পাইয়াছি।” ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: প্রশ্নোক্ত উক্তিটিতে কল্যাণীর পাশে একটু জায়গা পাওয়ায় অনুপমের স্বস্তির তৃপ্ততা প্রকাশ পেয়েছে। অনুপম ও কল্যাণীর বিয়ে হওয়ার কথা থাকলেও অনুপমের মামার গুরুতর অসদাচরণে বিয়ে ভেঙে যায়। অনুপম কল্যাণীর দেখা এক মুহূর্তের জন্যও পায়নি। যে দিন থেকে কল্যাণীর নাম শুনেছে সেদিন থেকে অনুপম তাকে ভালোবেসে ফেলেছে। সবশেষে রেল স্টেশনে কল্যাণীকে দেখে অনুপম তার কণ্ঠ ও রূপ মাধুর্যে অভিভূত হয়ে যায়। কিন্তু কল্যাণী নারী সেবার ব্রত নিয়ে বিয়ে না করার পণ করে। তাই অনুপম প্রিয় ও ভালোবাসার মানুষটির কাছে থেকে তাকে সাহায্য করার জন্য পাশাপাশি থাকার চেষ্টা করে। আর এই স্থানই তার কাছে পরম তৃপ্ততার।

২. “মেয়ের চেয়ে মেয়ের বাপের খবরটাই তাহার কাছে গুরুতর” —উক্তিটি বুঝিয়ে লেখ।
উত্তর: অনুপমের জন্য তার মামার বিস্তর পণসমেত দাসীরূপী কনে পাওয়ার অভিপ্রায় বোঝাতে প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করা হয়েছে। অনুপমের মামা ভাগনের জন্য এমন কনে আনতে চান, যে ধনীর কন্যা নয়, কিন্তু যার বাবা পণ হিসেবে টাকা দিতে কসুর করবে না। এতে করে তাকে শোষণ করা চলবে, কিন্তু কোনো কিছুতেই প্রতিবাদ করবে না। ধনীর কন্যা হলে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সমস্যা হতে পারে। তাই মেয়ের চেয়ে মেয়ের বাপের খবরটাই অনুপমের মামার কাছে অধিক গুরুতর।

৩. ‘তারপর বুঝিলাম, মাতৃভূমি আছে।’—বুঝিয়ে লেখ।
উত্তর: অনুপম কল্যাণীর স্বদেশপ্রেম সম্পর্কে আলোচ্য কথাটি বলেছে। অনুপমের সাথে কল্যাণীর বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। সেই বিয়ে ভাঙার পর থেকে কল্যাণী পণ করেছে কোনো দিন বিয়ে করবে না। দেশের কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করার ব্রতে কল্যাণী ত্যাগ করেছে। জাগতিক মোহ। দেশমাতার সেবায় মেয়েদের শিক্ষার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। তার এই প্রতিজ্ঞা থেকে কেউ তাকে এক কিদু টলাতে পারেনি। কল্যাণীর এভাবে মাতৃভূমির চরণে নিজেকে সঁপে দেওয়া প্রসঙ্গে অনুপম প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি করেছে।

৪. “একে তো বরের হাট মহার্য, তাহার পরে ধনুক-ভাঙা পণ” এই কথার অর্থ বুঝিয়ে দাও।
উত্তর: প্রশ্নোক্ত কথাটি দিয়ে কল্যাণীর জন্য সুযোগ্য বর খুঁজে পেতে তার বাবার ক্রমাগত অপেক্ষার কথা বোঝানো হয়েছে। বিশ শতকের সূচনালগ্নে কনের বয়স পনেরো হওয়াটা সন্দেহের বিষয়বস্তু ছিল। কনের বংশে নিশ্চয়ই কোনো দোষ আছে, এমনটাই ভাবা হতো তখন। যখন জানা গেল অনুপমের পাত্রীর বয়স পনেরো, তখন স্বভাবতই বরপক্ষের কপালে ভাঁজ পড়ল। আদতে বিষয়টা ছিল পুরোপুরি ভিন্ন। সুযোগ্য বর খুঁজে পাওয়াটা কঠিন, তারপরে কনের বাবা খুব জেদি স্বভাবের মানুষ। তাই তিনি কেবলই অপেক্ষা করে চলেছেন। এদিকে কনের বয়স বেড়েই চলেছে। এ বিষয়টি বোঝাতেই ‘নুক- ভাঙা পণ’ এর কথা অবতারণা করা হয়েছে।

৫. ‘অন্নপূর্ণার কোলে গজাননের ছোট ভাইটি’ – উক্তিটি ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: ‘অন্নপূর্ণার কোলে গজাননের ছোট ভাইটি’ কথাটি দ্বারা অনুপম নিজেকে সুবোধ বালক হিসেবে ব্যক্ত করেছে। জগতে অনেক মানুষ রয়েছে যাদের বয়স বাড়লেও ছেলেমানুষী ভাব দূর হয় না। নিজের জগৎটা ঘরের অন্দরেই থেকে যায়। পিতৃহারা অনুপম ছোটবেলা থেকে মায়ের কাছে মানুষ হয়েছে। সংসারে প্রাচুর্যের কোনো অভাব ছিল না। সে কোলে কোলেই মানুষ হয়েছে। এজন্য পরিণত বয়সেও সে কোলের শিশুর মতো রয়ে গেছে। বিয়ের জন্য এ ধরনের বালকসুলভ আচরণ যথোপযুক্ত নয়। এজন্য সুবোধ বালকের এ গুণটিকে ব্যঙ্গ করে অনুপম আলোচ্য উক্তিটির অবতারণা করেছে। অর্থাৎ গজাননের কোলের ভাই যেমন যুদ্ধ সৈনিক হতে পারে না, তেমনি আলোচ্য উক্তি দ্বারা বোঝা যায়, অনুপমও বিয়ের জন্য সুপাত্র নয়, মানুষ হিসেবে সুবোধ বালক মাত্র।

৬. অনুপমের মামার মন কীভাবে নরম হলো?
উত্তর: হরিশের সরস রসনার গুণে অনুপমের মামার মন নরম হলো। বন্ধু হরিশের কাছে সুন্দরী পাত্রীর সন্ধান পেয়ে অনুপমের মন বিয়ের জন্য উতলা হয়ে উঠেছিল। কিন্তু এই শুভ কাজ সম্পাদনে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন তার মামা। অতি সাবধানী ও চতুর স্বভাবের এই ভদ্রলোকটি ভাগ্নের বিয়েতে কতিপয় শর্ত জুড়ে দেন। এত কিছু মেনে অনুপমের জন্য পাত্রী পাওয়াই দুরূহ হয়ে উঠেছিল। কিন্তু হরিশের মুখে পাত্রীপক্ষের কার্না শুনে অনুপমের মামা বিয়েতে মত দেন। মূলত হরিশের বাক চাতুর্যের কারণেই এই আপাত অসম্ভব কাজটি সমাধা হয়েছিল।

৭. অনুপমের মামা স্যাকরাকে বিয়ে বাড়িতে এনেছিল কেন?
উত্তর: গহনা আসল না নকল তা পরীক্ষা করার জন্য অনুপমের মামা বিয়ে বাড়িতে স্যাকরাকে সঙ্গে এনেছিলেন। মামার লক্ষ্য ছিল তিনি কোনোভাবেই কারোর কাছে ঠকবেন না। কল্যাণীর বাবা শম্ভুনাথ সেনের কথাবার্তায় মামা কোনোভাবেই তার ওপর বিশ্বাস রাখতে পারেননি। কল্যাণীর বিয়েতে বাবা নগদ পণের সাথে গহনা দিতে চান। এসব গহনা খাঁটি কিনা বা মেয়ের বাবা বরপক্ষকে ফাঁকি দিচ্ছে কিনা তা যাচাই করার জন্য মামা স্যাকরাকে সঙ্গে নিয়ে বিয়ে বাড়িতে আসেন।

৮. “আমার ভাগ্যে প্রজাপতির সঙ্গে পঞ্চশরের কোনো বিরোধ নাই।”— বাক্যটির তাৎপর্য কী?
উত্তর: আলোচ্য বাক্যটি দ্বারা বুঝানো হয়েছে অনুপমের ক্ষেত্রে বিয়ের দেবতার সাথে কোনো অশুভ শক্তির বিরোধ নেই। মানুষ সামাজিক বন্ধনের ক্ষেত্রে ভাগ্য দেবতাকে বিশ্বাস করে। কোনো ক্ষেত্রে জীবনানুভূতির সাথে ভাগ্য দেবতার মিল খুঁজে পেলে তাকে শুভলক্ষণ মনে করে। অনুপমের ক্ষেত্রে এরকমই ঘটেছে। বিশ্বস্ত বিনুদাদা অনুপমের জন্য পাত্রী দেখে এসে পাত্রীর প্রশংসা করে। এ কারণে অনুপমের কাছে মনে হয় বিয়ের দেবতা তার দিকে মুখ ফিরে তাকিয়েছেন। এখন জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করার ক্ষেত্রে পঞ্চশর বা মদন দেবতার কোনো অশুভ দৃষ্টি বাধা হয়ে দাঁড়াবে না। এ জন্য আলোচ্য উক্তিটি দ্বারা অনুপম বুঝাতে চেয়েছে বিয়ের ক্ষেত্রে তার কোনো বাধা নেই। সৌভাগ্যই তার সঙ্গী হতে যাচ্ছে।

৯. “ভালো মানুষ হওয়ার কোনো ঝঞ্ঝাট নেই”— ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: অনুপম নিজের ভালোমানুষির কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে এমন কথা বলেছে। অনুপম একজন নির্ঝঞ্ঝাট, নির্বিরোধী মানুষ। কখনো গুরুজনের আদেশ অমান্য করেনি, অন্তঃপুরের শাসনের বাইরে যায়নি। তার কাছে অসৎ মানুষ হওয়াটা ঝামেলাপূর্ণ মনে হয়। কেননা অসৎ ব্যক্তিদের নানা ঝক্কি-ঝামেলা পোহাতে হয় যা তার ধাতে সয় না। এর চেয়ে অভিভাবকের নির্দেশ মেনে ভালোমানুষ হওয়াটা সহজ মনে হয় তার কাছে। আর এ কারণেই সে নিতান্ত ভালোমানুষ হয়ে বেড়ে উঠেছে বলে দাবি করে।

১০. ঠাট্টা তো আপনিই করিয়া সারিয়াছেন’ বুঝিয়ে দাও।
উত্তর: ‘ঠাট্টা তো আপনিই করিয়া সারিয়াছেন’ –বক্তব্যটি এক আআভিমানী পিতৃহৃদয়ের পুঞ্জিভূত ক্ষোভের স্বতঃস্ফূর্ত বহিঃপ্রকাশ। বিয়ের আসরে বরপক্ষের লোভী ও হীন মানসিকতায় কল্যাণীর বাবা শম্ভুনাথ যেন যারপরনাই বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। যৌতুকলোভী বরের মামা কনের স্বর্ণ পরীক্ষার জন্য বিয়ের দিনই স্বর্ণকার নিয়ে আসে, যা তার নিচু মানসিকতার পরিচায়ক। এমন সংকীর্ণচেতা পরিবারে কন্যা সম্প্রদানে শম্ভুনাথ বাবুর মন সায় দেয় না। নিতান্তই শান্ত প্রকৃতির হওয়ায় তিনি ধীর, চঞ্চলতাশূন্য ও বলিষ্ঠ কণ্ঠে বরপক্ষকে বিদায় হতে বললে বরের মামা ঠাট্টা করা হচ্ছে কিনা জানতে চায়। আর তখনই কল্যাণীর বাবা ক্ষুব্ধ হয়ে প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করেন।

১১. ‘কন্যার পিতা মাত্রেই স্বীকার করিবেন আমি সৎপাত্র’-কেন?
উত্তর: বিয়ের পাত্রের যে সব গুণ থাকা উচিত তার সবগুলো গুণই অনুপমের মধ্যে ছিল বলে সে একজন সৎপাত্র। সমাজের দৃষ্টিতে বিবাহযোগ্য পাত্রের ভালোমানুষ হওয়াটা খুব প্রয়োজন। ভালো মানুষ বলতে কোনো খারাপ গুণ না থাকাকে বোঝায়। অপু মায়ের শাসনে বেড়ে ওঠা এমনই একজন ভালো মানুষ। তার চরিত্রের এই দিকটি বিবেচনায় কন্যার পিতার নিকট অনুপম একজন সৎপাত্র।

১২. কল্যাণীর ‘মাতৃআজ্ঞা’র ধরন আলোচনা কর।
উত্তর: নারীশিক্ষার মতো মহতী উদ্যোগকে ব্রত হিসেবে নেয়াই কল্যাণীর মাতৃআজ্ঞার ধরন। কল্যাণীর ‘মাতৃআজ্ঞা’ মূলত দেশমাতারই আজ্ঞা। দেশের প্রতি আমাদের প্রত্যেকেরই কিছু কর্তব্য থাকে। কল্যাণী এই কর্তব্যকেই আজ্ঞা হিসেবে পালন করেছে। বরপক্ষের শঠতার কারণে বিয়ে ভেঙে যাওয়ার পর সে নারীশিক্ষায় ব্রতী হয়। সমাজে নারীর প্রতি অবহেলা, নারীকে পণ্য করে তোলা, নারীর যৌতুক নামক ঘৃণ্যপ্রথার বলি হওয়া প্রভৃতি দেখে তার মন বিষিয়ে ওঠে। আর নারীসমাজকে এ দুর্বিষহ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ ঘটাতে কল্যাণী সবকিছু ভুলে নিজেকে অবহেলিত নারীদের শিক্ষাদানে নিয়োজিত করে। আর এসবকেই সে তার ‘মাতৃআজ্ঞা’ হিসেবে মাথা পেতে নিয়েছিল।

১৩. অনুপমের বিবাহ যাত্রার বর্ণনা দাও।
উত্তর: অনুপমের বিবাহ যাত্রা খুবই আড়ম্বরপূর্ণ ও কোলাহলময় ছিল। অজস্র বরযাত্রী নিয়ে ব্যান্ড, বাঁশি, শখের কন্সর্ট বাজাতে বাজাতে বরবেশে অনুপম বিবাহ-বাড়িতে গিয়ে উপস্থিত হয়। আংটিতে হারেতে জরি-জহরাতে বরের পুরো শরীর আবৃত ছিল। অর্থাৎ অনুপমের বিবাহ যাত্রায় তাদের পরিবার যে ধনে-মানে শহরের কারও চেয়ে কম নয়, সেটি দেখানোর আগ্রহ ছিল। তা ছাড়া ভাবী শ্বশুর যেন জামাইয়ের মূল্য নির্ধারণে ভুল না করেন সে প্রচেষ্টাও কম ছিল না। তবে অনুপমের কাছে একে সুরশূন্য কোলাহল সহযোগে তার নিজের শরীরকে গহনার দোকান সাজিয়ে নিলামে চড়ানোর মতো মনে হয়েছে। তার এমন অনুভবে এই বিবাহ যাত্রার অন্তঃসারশূন্যতাই স্পষ্ট হয়।

১৪. “ঠাট্টার সম্পর্কটাকে স্থায়ী করিবার ইচ্ছা আমার নাই”- উক্তিটি কোন প্রসঙ্গে করা হয়েছে?
উত্তর: শম্ভুনাথ সেনের কন্যা-সম্প্রদানে অসম্মতি জ্ঞাপন প্রসঙ্গে প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করা হয়েছে। যৌতুকলোভী বরের মামা বিয়ের আসরেই কনের গা থেকে গহনা খুলে নিয়ে স্যাকরা দিয়ে পরীক্ষা করান। ব্যক্তিত্বরহিত বর অনুপম এমন দৃশ্য দেখেও নির্বিকার থাকে। স্বভাবতই এমন সংকীর্ণচেতা পরিবারে কন্যা-সম্প্রদানে শম্ভুনাথ বাবুর মন সায় দেয়নি। বিয়ে না পড়িয়েই তাই তিনি বরপক্ষকে বিদায় জানাতে চান। বরপক্ষ তাঁর এমন অভিপ্রায়কে ঠাট্টা হিসেবে আখ্যায়িত করলে তারাই এটি প্রথম করেছেন বলে জানিয়ে দেন শম্ভুনাথ। সেই সাথে এই ঠাট্টার সম্পর্কটাকে আত্মীয়তার সম্পর্কে গড়ানোর ইচ্ছে যে তাঁর নেই সেটাও জানিয়ে দেন।

১৫. ‘অথচ সেই না-চেনাটুকু যে কুয়াশামাত্র, সে যে মায়া।’ কেন?
উত্তর: অচেনা কণ্ঠস্বরটি অনুপমের হৃদয় মাঝে নিমেষেই চিরপরিচয়ের আসন পেতে নেয়, তাই সেই না-চেনাটুকু অতি তুচ্ছ মনে হয় তার কাছে। অনুপমের কাছে কণ্ঠস্বর ছিল চিরকালই এক বড় সত্য। তার মতে মানুষের মধ্যে যা অন্তরতম এবং অনির্বাচনীয়, কণ্ঠস্বর যেন তারই দর্পণ। মাকে নিয়ে ট্রেনে করে তীর্থযাত্রার সময় হঠাৎ অনুপম এক স্টেশনে অচেনা নারীকণ্ঠ শুনতে পেল। “শিগগির চলে আয়, এই গাড়িতে জায়গা আছে।” এই কণ্ঠস্বর অনুপমের কাছে এতটাই আপন মনে হয় যে তাকে না-চেনার দেয়ালটুকু যেন কুয়াশার মতো হালকা। সেই অচেনা কণ্ঠের অধিকারিণীকে না-দেখাটুকু তার কাছে মায়ার মতো মনে হয়।

১৬. ‘জায়গা আছে’ কথাটির তাৎপর্য বর্ণনা কর।
উত্তর: ‘জায়গা আছে’ কথাটি অনুপম শুনতে পায় মাকে নিয়ে ট্রেনে করে তীর্থে যাওয়ার সময়। অনুপম একটি মেয়েকে তার সঙ্গীদের উদ্দেশে বলতে শোনে “শিগগির চলে আয়, এই গাড়িতে জায়গা আছে।” তারপর থেকে ‘জায়গা আছে’ কথাটি অনুপমের মনে অনুরণিত হতে থাকে। সেই সুরেলা কথা ও মধুর কণ্ঠ মনে করে সে রোমাঞ্চিত হতে থাকে। এক পর্যায়ে জানতে পারে, এই সেই মেয়ে যার সাথে তার বিয়ে হতে গিয়েও ভেঙে গেছে। তখন থেকেই কল্যাণীর মনে একটু জায়গা পেতে মরিয়া হয়ে উঠে সে। সুবিধামতো কল্যাণীর কাজ করে তার মন জয় করার চেষ্টা করে। আর এসব করতে পেরে তার মনে হয় সে জায়গা পেয়েছে।

১৭. হরিশ কীভাবে অনুপমের মন উতলা করে দিয়েছিল?
উত্তর: একটি সুন্দরী পাত্রীর সন্ধান দিয়ে হরিশ অনুপমের মন উতলা করে দিয়েছিল। হরিশ অনুপমের বন্ধু। সে কানপুরে কাজ করে, ছুটিতে কলকাতায় এসেছে। কিছুদিন পূর্বেই অনুপম এমএ পাস করেছে। লেখাপড়া শেষ হওয়ায় তার তেমন কোনো কাজ নেই। এমন অবকাশের সময় হরিশ একটি সুন্দর মেয়ের সন্ধান দিয়ে অনুপমের মন উতলা করে দিয়েছিল।

১৮. ‘কলি যে চার পোয়া হইয়া আসিল’-ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: প্রশ্নোক্ত উক্তিটিতে কনের বাবা বিয়ে ভেঙে দিলে পাত্রপক্ষের ক্ষোভ ও বিস্ময় প্রকাশ পেয়েছে। পাত্রপক্ষের অভিভাবক অনুপমের মামা বিয়ের আসরে যৌতুক নিয়ে অত্যন্ত হীন মানসিকতার পরিচয় দেন। তিনি বারবার কনের গয়না যাচাইয়ের জন্য চাপাচাপি করলে কনের বাবা বিয়ে ভেঙে দেন। এতে পাত্রপক্ষ অত্যন্ত অপমানিতবোধ করে। বিয়ে ভেঙে দিলে কনে লগ্নভ্রষ্ট হবে এটা জেনেও কনে পক্ষ এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ায় তারা হতভম্ব হয়ে পড়ে। ধীরে ধীরে যুগ পরিবর্তন হয়ে কলিকাল বুঝি সম্পূর্ণরূপে আত্মপ্রকাশ করল এমন আশঙ্কা করে আলোচ্য উক্তিটি করা হয়েছে।

১৯. অনুপমের মনের কালো রঙের ধারা সাপের মতো ফোঁস করে উঠল কেন?
উত্তর: প্রতিশোধস্পৃহায় অনুপমের, মনের কালো রঙের ধারা সাপের মতো ফোঁস করে উঠল। ‘অপরিচিতা’ গল্পে কল্যাণীর বাবা শম্ভুনাথ বাবু মেয়েকে অনুপমের সাথে বিয়ে দেননি। বিয়ের রাতে বরযাত্রীসহ অনুপমের মামাকৈ যৌতুক লোভী অমানবিক আচরণ করায় ফিরিয়ে দেন শম্ভুনাথ বাবু। প্রায় এক বছর পর কল্যাণীর বিয়ে না করার প্রতিজ্ঞার কথা শুনে এবং অবসন্ন জীবন যাপনের কথা শুনে অনুপম পুলকিত হয়। কল্যাণীর বাবা পরে অনুপমের কাছে যদি আসে তাহলে তার মনে প্রতিশোধ নেওয়ার যে স্পৃহা তা যেন সাপের মতো ফণা তুলে ফোঁস করে উঠেছিল।

২০. ‘ইহার গতি সহজ, দীপ্তি নির্মল, সৌন্দর্যের শুচিতা অপূর্ব- কার সম্পর্কে, কেন বলা হয়েছে?
উত্তর: ‘অপরিচিতা’ গল্পের কল্যাণীর সৌন্দর্য ও মধুময় স্বভাব বৈশিষ্ট্য দেখে প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করা হয়েছে। ‘অপরিচিতা’ গল্পের অনুপম তার মাকে নিয়ে ট্রেনে করে তীর্থে যাচ্ছিল। পথে একটি বড় স্টেশনে গাড়ি বদলের সময় তার মাকে লক্ষ করে একটি মেয়ে বলল, ‘আপনারা আমাদের গাড়িতে আসুন না- এখানে জায়গা আছে।’ পূর্বপরিচিত আশ্চর্যমধুর গলার স্বর শুনে অনুপম আর দেরি না করে ফার্স্ট ক্লাসের টিকিট থাকার পরও মাকে নিয়ে সেকেন্ড ক্লাসে ওঠে এবং মেয়েটিই কুলিদের হাত থেকে বিছানাপত্র টেনে তোলে। মেয়েটির আকর্ষণীয় সৌন্দর্য, নির্মল দীপ্ত ও সহজ-সরল কথাবার্তা, গতিময় চঞ্চলতা দেখে অনুপমের মা-ও পলকহীন চোখে মেয়েটির দিকে তাকিয়ে ছিলেন।

২১. “কল্যাণী বলে, আমি বিবাহ করিব না”- কেন?
অথবা, কল্যাণী বিয়ে করতে অসম্মতি জ্ঞাপন করেছিল কেন?

অথবা, কল্যাণী বিয়ে না করার প্রতিজ্ঞা করেছে কেন?
উত্তর: মাতৃভূমির সেবায় ব্রত থাকার অভিপ্রায়ে কল্যাণী। স না করার সিদ্ধান্ত নেয়। জীবনের অন্য সব অনুষঙ্গ ত্যাগ করে মাতৃভূমিকে ভালোবেসে মানুষ জীবন কাটিয়ে দিতে পারে। অতীতের সকল যাতনা ভুলে থাকতে পারে। বরপক্ষের শঠতার কারণে বিয়ে ভেঙে যাওয়ার পর থেকেই কল্যাণী নারী শিক্ষায় ব্রতী হয়। নারী শিক্ষার মাধ্যমে মাতৃভূমির সেবাকে সে ধ্যান জ্ঞান মনে করে। ঘটনাচক্রে বর অনুপম তার অতীত ভুলকে শুধরে নেওয়ার জন্য কল্যাণী ও তার বাবার কাছে ক্ষমা চায় এবং পুনরায় কল্যাণীকে বিয়ের জন্য অনুরোধ করে। কিন্তু কল্যাণী সবকিছু ভুলে গিয়ে নিজেকে অবহেলিত নারীদের শিক্ষা দানে নিয়োজিত করে। তাই দায়িত্ববোধের কারণেই কল্যাণী অনুপমের বিয়ের প্রস্তাবে অসম্মতি জানায়।

২২. ‘বাংলাদেশের মধ্যে আমিই একমাত্র পুরুষ যাহাকে কন্যার বাপ বিবাহ আসর হইতে নিজে ফিরাইয়া দিয়াছে’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: প্রশ্নোক্ত উক্তিটি দ্বারা নির্জীব এবং ব্যক্তিত্বহীন অনুপমের আত্মোপলব্বির দিকটি বোঝানো হয়েছে। আমাদের সমাজে সুদর্শন ও শিক্ষিত বরের কদর সমধিক। এমন পাত্র কেউই হাতছাড়া করতে চায় না। বিশেষ করে কন্যা দায়গ্রস্ত পিতা পাত্রের খোঁজ পেলেই যে কোনোভাবে তার সাথে কন্যার বিয়ে দিতে চান। কিন্তু ‘অপরিচিতা’ গল্পের পিতা শম্ভুনাথ সেন এক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ভিন্ন ভূমিকা পালন করেছেন। পাত্র হিসেবে অনুপম শিক্ষিত এবং সুদর্শন হওয়া সত্ত্বেও নিজের আত্মসম্মানবোধ এবং নারীর সম্মান রক্ষার্থে শম্ভুনাথ সেন বিয়ের আসর থেকে তাকে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। তার এ নির্ভী, তুমিকা তুলে ধরা এবং অনুপমের নিজের অক্ষমতা প্রকাশ করাই আলো; উক্তিটির মূল ভাবার্থ।

২৩. “শুনিয়া মা এবং আমি দুজনেই চমকিয়া উঠিলাম।”- কেন অনুপম ও তার মা চমকে উঠেছিল?
অথবা, কল্যাণীর নাম শুনে অনুপম ও তার মা চমকে উঠেছিল কেন?
উত্তর : অনুপম এবং তার মা উপকার করা মেয়েটির নাম কল্যাণী শুনে চমকে ওঠে। কেননা এ মেয়ের সাথেই একসময় অনুপমের বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। উপকারীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো মানুষের অবশ্য কর্তব্য। সেক্ষেত্রে অচেনা উপকারী পূর্ব পরিচিত হলে কৃতজ্ঞতা স্বীকারকারীর মনে বিস্ময় জাগে। ট্রেন যাত্রী অনুপম মাকে নিয়ে যাওয়ার সময় যাত্রা সংক্রান্ত জটিলতায় কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ে। ঠিক তখন একটি মেয়ে তাদের সাহায্য করে। মেয়েটির দায়িত্ব পালনের দক্ষতায় অভিভূত অনুপমের মা তার নাম শুনেই বুঝতে পারে এ মেয়ের সাথেই অনুপমের বিয়ে ঠিক হয়েছিল। নিজেদের স্বার্থান্ধতার কারণে যে মেয়েটিকে ঘরে তুলতে পারেনি, তার সাথে এমন নাটকীয়ভাবে দেখা হওয়ায় অনুপম ও তার মা চমকে উঠেছিল।

২৪. ধনীর মেয়ে মামার পছন্দ নয় কেন?
উত্তর: ভাগনে বউকে সারাজীবন যেন দাসী বানিয়ে রাখতে পারে সেই বাসনায় ভাগনের বউ হিসেবে মামার ধনী কনে পছন্দ নয়। অনুপমের পরিবারে তার মামাই সব। মামার সিদ্ধান্তে তার পরিবারের সকল কাজ হয়। সঙ্গত কারণে অনুপমের জন্য কনে বাছাইয়ের দায়িত্বও তার উপর বর্তায়। অনুপমের জন্য মামা তাই এমন কনে চান যে সারা জীবন নত মাথায় তাদের সকল আদেশ পালন করবে। পরিবারের সকলকে সমীহ করবে। কোনোকিছুতেই প্রতিবাদ করবে না। কখনো কোনো বিষয়ে উচ্চবাচ্য করবে না। কিন্তু ধনী মেয়ের ক্ষেত্রে এই বিষয়গুলো বাস্তবায়নে সমস্যা হতে পারে। তাই মামা অনুপম কনে হিসেবে ধনী মেয়ে পছন্দ করেন না।

২৫. ‘তবে আপনাদের গাড়ি বলিয়া দিই’?—এই উক্তিটি শম্ভুনাথ কেন করেছিল?
উত্তর: বিয়ের আসর থেকে বরপক্ষকে ফিরিয়ে দিতে কন্যার পিতা শম্ভুনাথ আলোচ্য উক্তিটি করেছিল বরের মামার লোভী ও হীন মানসিকতা এবং বরের ব্যক্তিত্বহীনতায় শম্ভুনাথ বাবু যারপরনাই বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন। আত্মসম্মানবোধে উদ্দীপ্ত শম্ভুনাথ এহেন সংকীর্ণচেতা পরিবারের সাথে সম্পর্ক স্থাপনে অনিচ্ছা পোষণ করেন। কিন্তু তিনি ছিলেন শান্ত প্রকৃতির মানুষ; তাই তিনি উচ্চবাচ্য না করে তাঁর ভাব প্রকাশে ধীর চঞ্চলতাশূন্য ও বলিষ্ঠ প্রতিবাদী শব্দ বেছে নেন। বরপক্ষকে রীতিমতো তাড়িয়ে দিতে তিনি বলে উঠেন, ‘তবে আপনাদের গাড়ি বলিয়া দিই’।

২৬. গহনার খাদ পরীক্ষার সময় অনুপমের মামার মুখ লাল হয়ে উঠেছিল কেন?
উত্তর: বরপক্ষের দেয়া সোনার একজোড়া এয়ারিংয়ে খাদ ধরা পড়ায় অনুপমের মামার মুখ লাল হয়ে উঠেছিল। ছল-ছাতুরি ধরা পড়লে মানুষ স্বভাবতই লজ্জা পায়। অন্যের ছল- ছাতুরি ধরতে গিয়ে অপরাধী সাব্যস্ত হলে সেক্ষেত্রে লজ্জার সীমা থাকে না। অনুপমের বিয়ের জন্য মামা কনেপক্ষের কাছে যৌতুকের সাথে গহনা দাবি করে। কনেপক্ষ যাতে দাবিকৃত গহনায় খাদ না দিতে পারে সে জন্য মামা সেকরা দিয়ে সে গহনা পরীক্ষা করে। স্যাকরার পরীক্ষায় কনেপক্ষের গহনা খাঁটি প্রমাণিত হলেও একজোড়া এয়ারিং এ খাদ দেখা যায় যা বরপক্ষ আশীর্বাদস্বরূপ বিয়ের পাত্রীকে দিয়েছিল। এ ঘটনায় বরপক্ষের ছল-ছাতুরি ধরা পড়ে। এ কারণে গহনার খাদ পরীক্ষার সময় অনুপমের মামার মুখ লাল হয়ে উঠেছিল।

২৭. অনুপমের বাড়ির সবাই রেগে আগুন হয়েছিল কেন?
উত্তর: কন্যার বাপের অহংকার দেখে অনুপমের বাড়ির সবাই রেগে আগুন হয়ে উঠেছিল। মানুষ অন্যের অহংবোধের কাছে পরাজয় সহ্য করতে পারে না। রাগের মাধ্যমে নিজ অহংকার প্রকাশ যৌক্তিক বলে মনে করে। ‘অপরিচিতা’ গমে বরপক্ষ কনে পক্ষের ওপর খবরদারিকে স্বাভাবিক মনে করে। তাই বিয়ের আসরে কন্যার বাপের কন্যা সম্প্রদানে অস্বীকৃতিকে তারা চরম ধৃষ্টতাপূর্ণ কাজ বলে মনে করে। বরপক্ষের মতে কন্যার বাবা শম্ভুনাথ বাবু মেয়ের বিয়ে না দিয়ে প্রথা বিরোধী কাজ করেছেন। শম্ভুনাথ বাবুর এ ধরনের সিদ্ধান্তের কারণে বরপক্ষ তথা অনুপমের বাড়ির সবাই রেগে গিয়েছিল।

২৮. শম্ভুনাথ বাবু অনুপমের সঙ্গে মেয়ের বিয়ে দিলেন না কেন?
উত্তর: অনুপমের মামার লোভী মানসিকতা ও অনুপমের ব্যক্তিত্বহীনতার পরিচয় পেয়ে শম্ভুনাথ বাবু তার সঙ্গে মেয়ের বিয়ে দেননি।’ ভাগ্নের বিয়েতে অনুপমের মামা মেয়ের বাবার কাছ থেকে কড়ায়- গণ্ডায় যৌতুক বুঝে নিতে চান। তিনি যৌতুকের গয়না যাচাই করে দেখার জন্য বিয়ে বাড়িতে স্যাকরা নিয়ে হাজির হন। এতে শম্ভুনাথ বাবু অপমানিত হন। তা ছাড়া তিনি বিয়ের পাত্র অনুপমের মতামত জানতে চেয়ে লক্ষ করেন, তার নিজস্ব মতামত দেয়ার মতো ক্ষমতাও নেই। তাই নিজের আত্মসম্মান রক্ষা এবং মেয়ের কল্যাণ চিন্তা করে, শম্ভুনাথ বাবু মেয়ের বিয়ে দিতে অস্বীকৃতি জানান।

২৯. অনুপমের সংসারে মামাকে গর্বের সামগ্রী বলা হতো কেন?
উত্তর: স্বার্থ হাসিলে পটুতার কারণে অনুপমদের সংসারে মামা ছিলেন গর্বের সামগ্রী। চতুর মানুষ অন্যকে ঠকিয়ে নিজেকে বিজয়ী মনে করে। চতুরতায় দক্ষতার জন্য তার গর্বের শেষ থাকে না। অনুপমের মামা ছিলেন এমনই এক চরিত্রের মানুষ। সংসারে যে কোনো বিষয়ে অন্যের সাথে দর কষাকষির প্রয়োজন হলে অনুপমের মামার ওপর সবাই আস্থা রাখত। কার্যত তার চাতুর্যের কাছে অন্যরা হার মানবেই, পরিবারের সবার এ বিশ্বাস ছিল। মামার কাছে অন্যপক্ষের ধনসম্পদ অথবা অভাবের কোনো মূল্য ছিল না। অনুপমের মামার স্বার্থরক্ষায় চাতুর্যপূর্ণ এ ধরনের বৈশিষ্ট্যের কারণে সংসারে সবাই তাকে গর্বের সামগ্রী মনে করত।

৩০. অনুপমের মামা বিয়ে বাড়িতে ঢুকে খুশি হননি কেন?
উত্তর: বিয়ে বাড়িতে সাদাসিদে আয়োজন দেখে অনুপমের মামা খুশি হতে পারেননি। সামাজিক অনুষ্ঠান পালনে অনেক সময় প্রতিযোগিতা প্রাধান্য পায়। অহংকারী সামর্থ্যবানরা মহা ধুমধামে অনুষ্ঠান পালন করতে পছন্দ করে। ‘অপরিচিতা’ গল্পে অনুপমের মামা ব্যান্ড, বাঁশি প্রভৃতি বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে বিয়ে বাড়িতে হাজির হলেন। বিয়ে বাড়িতে ঢুকেই মামা দেখেন, কনে পক্ষের আয়োজন খুব সাধারণ মানের। বরপক্ষের বিশাল আয়োজনের কাছে বড়ই বেমানান। অভ্যর্থনা দেখে মামার মনে হয়েছে, তাদের আড়ম্বর আগমন কনেপক্ষের সাধারণ মানুষগুলো বুঝতেই পারেনি।


আশাকরি অপরিচিতা গল্পের সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন PDF সহ আর্টিকেল টি আপনাদের ভালো লেগেছে। ভিডিও ক্লাস করতে সাবক্রাইব করে রাখতে পারেন আমাদের YOUTUBE চ্যানেল এবং আমাদের কোন আপডেট মিস না করতে চাইলে কানেক্ট থাকতে পারেন আমাদের FACEBOOK পেজে।